Wednesday, March 27, 2019

ঘরে বসে লাখপতি হোন।

অনলাইন ভিত্তিক অর্থ উপার্জনের ১০০% নিশ্চয়তা দিয়ে ডি.আই.টি-তে বিভিন্ন কোর্স-এ ভর্তি চলিতেছে..!

মোবাইলঃ-01763-023348

অভিভাবকদের অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সোনারদেশ২৪: ডেস্কঃ

sonardesh24.comসন্তানের শিক্ষা নিয়ে অভিভাবকদের অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার (১৩ মার্চ) সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক সময় শিশুদের চেয়ে তাদের মা-বাবা ও অভিভাবকদের মধ্যে বেশি প্রতিযোগিতা হয়। এই প্রতিযোগিতা তাদের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অভিভাবকদের খেয়াল রাখতে হবে শিক্ষাটাকে শিশুরা যাতে আপন করে নিতে পারে।’

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রাথমিক শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। এরই মধ্যে প্রাক-প্রাথমিকও চালু করেছি কিন্তু শিশুদের শিক্ষার জন্য অতিরিক্ত চাপ দেওয়া উচিত নয়। কিন্তু অনেক দেশ আছে, যেখানে ৭ বছর বয়স থেকে বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানো হয়, তার আগে নয়। আসলে শিশুদের জন্য এমনভাবে পড়ালেখার ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে, যেন তারা খেলতে খেলতে, হাসতে হাসতে নিজের মতো করে শিখতে পারে। চাপ দিলে শিক্ষার প্রতি তাদের আগ্রহ কমে যাবে, ভীতি তৈরি হবে। সেই ভীতি যেন শিশুদের মধ্যে তৈরি না হয়, সেদিকে দৃষ্টি দেওয়ার জন্য শিক্ষক ও অভিভাবকদের অনুরোধ করব।’

শিশুদের স্কুলে ভর্তিতে ভর্তি পরীক্ষার তীব্র বিরোধিতা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘অনেক জায়গায় দেখি ক্লাস ওয়ানে ভর্তির জন্য ছাপানো প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়। আমার প্রশ্ন, তারা সবকিছু শিখেই যদি স্কুলে যাবে, তাহলে স্কুলে গিয়ে কী শিখবে? এই প্রক্রিয়া বাতিল করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘একটা সময় আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন এসএসসি পরীক্ষা দিতে গেলে মনের মধ্যে ভীতি কাজ করতো। না জানি বোর্ডের পরীক্ষা কি? এমন একটা আতঙ্ক কাজ করতো। কিন্তু এখনকার শিশুরা আর ভয় পায় না। তারা ছোট বেলা থেকেই বোর্ড পরীক্ষা দিতে পারছে।’

তিনি বলেন, আমি বলেছি, ঢাকা হোক বা দেশের বাইরে যেকোনো জায়গায় হোক, সব জায়গাতে এলাকাভিত্তিক স্কুলে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করতে হবে। এরই মধ্যে কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আরও ভালোভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ব্যবস্থায় শিশুর বয়স ৪-৫ বছর হয়ে গেলেই তাকে স্কুলে ভর্তি করে নিতে হবে। এই শিক্ষা তো তার অধিকার। অনেক উচ্চবিত্ত, বিত্তশালী আছে যারা সন্তানদের বিশেষ স্কুলে পড়াতে চান। তাদের কথা আলাদা। কিন্তু প্রতিটি শিশু যেন নিজ নিজ এলাকার স্কুলে সহজে যেতে পারে, সেই ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা বিনা পয়সায় বই দিচ্ছি। স্কুলের বাচ্চারা ঝরে পড়ে কেন? তারা যেন ঝরে না পড়ে, সেজন্য নানারকম পদক্ষেপ নিয়েছি। স্কুলে বিস্কুট দেওয়া হচ্ছে। ছেলেমেয়েদের মায়েদের কাছে বৃত্তির টাকা পাঠিয়ে দিচ্ছি। প্রত্যেক মাকে সন্তানদের বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। শিক্ষকদেরও উদ্যোগ নিতে হবে। এখন অনেক জায়গায় শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া বন্ধ হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা স্কুলে যায়। স্বাভাবিক শিক্ষার্থীদের বোঝাতে হবে, প্রতিবন্ধীরাও মানুষ। তাদের দায়িত্ব স্বাভাবিক শিক্ষার্থীই নেবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরীক্ষা ভীতি দূর করার জন্য আমরা ক্লাস ফাইভ ও এইট-এ পরীক্ষা নিচ্ছি। হঠাৎ করে এসএসসি পরীক্ষা দিতে শিক্ষার্থীরা ভয় পেতো। তাছাড়া ফাইভ ও এইট-এর পরীক্ষায় পাওয়া সার্টিফিকেট ঘরে টাঙিয়ে রাখলেও তাতে শক্তি আসে।’

এর আগে সকাল ১০টায় এ অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় তিনি জাতীয় শিক্ষা পদক বিতরণ করেন।

এ বছর ১৩ মার্চ থেকে ১৯ মার্চ জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ ২০১৯ ঘোষণা করা হয়। জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহের এবারের প্রতিপাদ্য হলো- ‘প্রাথমিক শিক্ষার দীপ্তি, উন্নত জীবনের ভিত্তি’।

এ সপ্তাহ উদযাপন উপলক্ষে বিভাগীয় উপপরিচালকের কার্যালয়, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, উপজেলা/থানা শিক্ষা অফিস, দেশে ও বিদেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শোভাযাত্রা, সেমিনার, আলোচনাসভার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর।

Share This:

Check Also

শাহজালাল বিমানবন্দরে অস্ত্র ও গুলিসহ আ.লীগ নেতা গ্রেফতার

সোনারদেশ২৪: ডেস্কঃ ঘোষণা ছাড়া অস্ত্র নিয়ে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবেশ করায় এস এম মুজিবুর ...

সম্পাদকঃ জিয়া্উল হক, নির্বাহী সম্পাদকঃ নওশাদ আহমেদঠিকানাঃ কমিউনিটি হাসপাতাল (৫ম তলা) মুজিব সড়ক, সিরাজগঞ্জ।
ফোনঃ ০১৬৮৩-৫৭৭৯৪৩, ০১৭১৬-০৭৬৪৪৪ ইমেইলঃ sonardesh24.corr@gmail.com, sonardesh24@yahoo.com