Sunday, December 16, 2018

ঘরে বসে লাখপতি হোন।

অনলাইন ভিত্তিক অর্থ উপার্জনের ১০০% নিশ্চয়তা দিয়ে ডি.আই.টি-তে বিভিন্ন কোর্স-এ ভর্তি চলিতেছে..!

মোবাইলঃ-01763-023348
sonardesh24.com

আজ গাজীপুর হানাদার মুক্ত দিবস

সোনারদেশ২৪ রিপোর্টঃ

sonardesh24.comআজ ১৫ ডিসেম্বর। গাজীপুর পাক হানাদান মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর গাজীপুর (জয়দেবপুর) পাক হানাদার মুক্ত হয়। এর আগ পর্যন্ত জয়দেবপুরের আশে পাশে ছয়দানা ও পূবাইল এলাকায় পাক হানাদার বাহিনীর সঙ্গে মুক্তি বাহিনী ও মিত্র বাহিনীর সম্মুখ যুদ্ধ চলে। এ সব যুদ্ধে পাত হানাদার বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়।

মহান মুক্তিযুদ্ধে জয়দেবপুর তথা গাজীপুরবাসীদের রয়েছে অবিস্মরণীয় বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা। ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ এই জয়দেবপুরেই সংঘটিত হয়েছিল প্রথম সশস্ত্র গণপ্রতিরোধযুদ্ধ। জয়দেবপুর রাজবাড়িতে অবস্থিত বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সদস্যদের নিরস্ত্র করতে পাকসেনা কর্মকর্তা ব্রি. জাহান জেব ঢাকা সেনানিবাস থেকে জয়দেবপুর আসার খবরে সকল স্তরের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সশস্ত্র প্রতিরোধ আন্দোলনের অংশ হিসেবে শহরের রেলগেট ও চান্দনা-চৌরাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। এ ঘটনায় জাহান জেবের নির্দেশে পাক সেনারা ছাত্র-জনতার উপর গুলি চালায়। এদিন নেয়ামত, মনু খলিফা, হুরমত আলী ও কানু মিয়া শাহাদৎ বরণ করেছিলেন। ওই দিন জয়দেবপুরসহ সারাদেশে ধ্বনি উঠেছিল, ‘জয়দেবপুরের পথ ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর।’

২৫ মার্চ পাক হানাদার বাহিনী নৃশংসতা শুরু করলে এলাকার রাজনৈতিক নেতাকর্মী, ছাত্র-জনতা প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য ভারতে চলে যান এবং প্রশিক্ষণ শেষে জয়দেবপুরের আশে-পাশে এসে অপারেশন শুরু করেন। ১৯৭১-এর ডিসেম্বরের শুরু থেকেই পাক হানাদার বাহিনীর অবস্থানের উপর আক্রমণ চালাতে থাকেন।

১২ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা সম্মিলিতভাবে পাক বাহিনীর উপর জোরালো আক্রমণ চালালে তারা অনেকটা কোণঠাঁসা হয়ে পরে। জয়দেবপুর সেনানিবাস, অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি, মেসিনটুলস ফ্যাক্টরি, রাজেন্দ্রপুর অর্ডন্যান্স ডিপো থেকে পাকিস্তানি সৈন্যরা ঢাকার দিকে পালানোর জন্যে চান্দনা-চৌরাস্তায় সমবেত হতে থাকে।

এদিকে উত্তর রণাঙ্গন অর্থাৎ ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, টাঙ্গাইল থেকেও পাক বাহিনী, মিত্র ও মুক্তি বাহিনীর আক্রমণে টিকতে না পেরে টাঙ্গাইল হয়ে সড়ক পথে তারা ঢাকার দিকে পিছু হটতে থাকে। পিছু হটার সময় তারা কড্ডা ব্রিজটি বোমা মেরে উড়িয়ে দেয় এবং চান্দনা-চৌরাস্তায় এসে তাদের বাহিনীর সদস্যদের সাথে যোগ দেয়। অপরদিকে পিছু ধাওয়াকারী মুক্তি, মিত্র ও কাদেরিয়া বাহিনী কড্ডা ব্রিজ পেরোতে না পেরে কাশিমপুরে অবস্থান নেয়।

১৪ ডিসেম্বর চান্দনা-চৌরাস্তায় জড়ো হওয়া পাকিস্তান আর্মির বিশাল একটি কনভয় ঢাকার দিকে রওনা হয়ে ছয়দানা নামক স্থানে পৌঁছলে কাশিমপুর থেকে মুক্তি, মিত্র ও কাদেরিয়া বাহিনীরা তাদের উপর কামান ও মর্টারের গোলাবর্ষণ করতে থাকে। প্রবল গোলাবর্ষণে পাকিস্তানি বাহিনী সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এখানে প্রায় ৪-৫শ’ পাক  সৈন্য মারা যায়, ধবংস হয় কামান ট্যাঙ্কসহ বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও যানবাহন। এ আক্রমণ ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। পাক বাহিনীর পরাজয়ে ১৫ ডিসেম্বর জয়দেবপুর হানাদার বাহিনী মুক্ত হয়ে পরে। তবে সেদিন পর্যন্ত যুদ্ধ অব্যাহত থাকায় অল্পসংখ্যক মুক্তিবাহিনী জয়দেবপুর প্রবেশ করলেও পরদিন ১৬ ডিসেম্বর ভোরে মুক্তিবাহিনী জয়বাংলা ধ্বনিতে চারিদিক প্রকম্পিত করে সম্মিলিতভাবে জয়দেবপুর প্রবেশ করেন।

Check Also

sonardesh24.com

বিজয় দিবসের নাটক ‘আত্মজ’

বিনোদন ডেস্কঃ সোনারদেশ২৪: মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট নিয়ে নির্মিত হয়েছে বিশেষ নাটক ‘আত্মজ’। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ...

সম্পাদকঃ জিয়া্উল হক, নির্বাহী সম্পাদকঃ নওশাদ আহমেদঠিকানাঃ কমিউনিটি হাসপাতাল (৫ম তলা) মুজিব সড়ক, সিরাজগঞ্জ।
ফোনঃ ০১৬৮৩-৫৭৭৯৪৩, ০১৭১৬-০৭৬৪৪৪ ইমেইলঃ sonardesh24.corr@gmail.com, sonardesh24@yahoo.com