Tuesday, November 13, 2018

ঘরে বসে লাখপতি হোন।

অনলাইন ভিত্তিক অর্থ উপার্জনের ১০০% নিশ্চয়তা দিয়ে ডি.আই.টি-তে বিভিন্ন কোর্স-এ ভর্তি চলিতেছে..!

মোবাইলঃ-01763-023348
sonardesh24.com

গাইবান্ধা জেলা পরিষদের অর্থ অনুমোদনের আগেই খরচ!

সোনারদেশ২৪ রিপোর্টঃ

sonardesh24.comমন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না নিয়ে গাইবান্ধা জেলা পরিষদের নিজস্ব অর্থ মনগড়াভাবে ব্যয়সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতার বিরুদ্ধে। তিনি প্রকল্প অনুমোদনের আগেই ২২ লাখ টাকার সোলার প্যানেল নিজের এলাকায় বিতরণ করেছেন। নিয়ম বহির্ভূতভাবে সরকারি গাড়ি নিয়ে যাতায়াত করছেন ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায়। দরপত্র ছাড়াই কিনেছেন সিসি (ক্লোজ সার্কিট) ক্যামেরা। জেলা পরিষদের ডাক বাংলোয় চলছে নিজের এবং দলীয় লোকজনের থাকা-খাওয়া।

জেলা পরিষদের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় পার্টির নেতা আতাউর রহমান আতা চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি ঢাকায় চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ নেন। দায়িত্ব গ্রহণের আড়াইমাস সময়ের মধ্যেই তিনি নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। দরপত্র নীতিমালা অনুযায়ী, দুই লাখ টাকার বেশি কাজের ক্ষেত্রে দরপত্র আহ্বান ও প্রকল্পসমূহ অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর টাকা খরচ করার কথা। এ ছাড়া মোট বরাদ্দের শতকরা ৬০ ভাগ দরপত্র আহ্বান এবং ৪০ ভাগ প্রকল্প করে টাকা খরচের নিয়ম।

কিন্তু চেয়ারম্যান আতাউর প্রকল্প অনুমোদনের আগে ও দরপত্র আহ্বান ছাড়াই ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরের পরিষদের নিজস্ব অর্থে ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৮৮টি সোলার প্যানেল নিজের এলাকা সাঘাটা উপজেলায় বিতরণ করেন। দুই লাখ করে মোট এগারটি প্রকল্পের মাধ্যমে এসব সৌরবিদ্যুৎ মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেওয়া হয়। এসব কেনাকাটা করা হয় আরও আগে। গত ২৭ মার্চ সাঘাটা ডাকবাংলো চত্বরে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রকৌশলী  ও সদস্যগণের উপস্থিতিতে চেয়ারম্যান প্রধান অতিথি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এগুলো বিতরণ করেন।

সূত্র জানায়, দায়িত্ব গ্রহণের পরই দরপত্র আহবান না করেই তিনলাখ টাকা ব্যয়ে ডাক বাংলোসহ জেলা পরিষদ কার্যালয়কে সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসেন তিনি। জাসদের স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক ও সাদুল্লাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান খাদেমুল ইসলাম খুদি বলেন, জেলা পরিষদের টাকা মানে, জনগনের টাকা। পরিষদের আর্থিক ব্যয় জবাবদিহিতার মধ্যে আনতে হবে। অনুমোদনের আগে সৌরবিদ্যুৎ বিতরন নীতিমালার পরিপন্থী। জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক মন্ডল বলেন, জেলা পরিষদে স্বচ্ছতা আনা দরকার।

এ প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুঠোফোনে ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘জেলা পরিষদের নিজস্ব অর্থায়নে সৌরবিদ্যুৎ দেওয়া হয়। পরিষদের সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। দুই লাখ টাকা করে প্রকল্প নিজেরাই করতে পারি।’

একই বিষয়ে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা একেএস মাহবুবুর ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘টাকা খরচ করা হলেও প্রকল্পসমূহ অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।’

এদিকে সরকারি যানবাহন ব্যবহারের নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তা জেলার বাইরে গাড়ি নিয়ে ভ্রমণ করতে পারবেন না। প্রয়োজন হলে মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা জেলা পরিষদের পাজেরো গাড়ি নিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করছেন বলে ঘনিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি সৈয়দ শামস-উল-আলম হিরু ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘আমি পাঁচ বছর দায়িত্বে ছিলাম। কিন্তু কখনও পরিষদের গাড়ি নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার প্রয়োজন হয়নি। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের আগে টাকা খরচ করা নিয়মের পরিপন্থী।’
তবে যানবাহন প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, ‘মিনিস্ট্রিতে প্রোগ্রাম ছিল, অবশ্যই আমাকে অফিসিয়াল কাজে গাড়ি নিয়ে যেতে হবে।’

অপরদিকে চেয়ারম্যান আতাউর রহমান দায়িত্ব গ্রহণের চারদিন পর পরিষদের নিজস্ব ডাক বাংলোর দোতলায় শীতাতপসহ চারটি কক্ষে কর্মী সমর্থকদের নিয়ে থাকা-খাওয়া শুরু করেন। শীতাতপ কক্ষে একজন থাকার নিয়ম। অথচ সেখানে গাদাগাদি করে পাঁচ থেকে ছয়জন চেয়ারম্যানের কর্মী সমর্থক রাত্রিযাপন করতে থাকেন। এনিয়ে বিভিন্ন মহলে কথাবর্তা উঠলে শীতাতপ দুটি কক্ষ রেখে সাধারণ দুটি ছেড়ে দেন। অবশ্য কক্ষ ভাড়া দিয়েছেন। এখন অপ্যায়নও কমে গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারি বলেন, ‘চেয়ারম্যান স্যারের মাথা সবসময় গরম থাকে।স্যারের ও তার লোকজনের খেদমতের সামান্য ত্রুটি হলেই গালিগালাজ করা হয়। তিনি  গাইবান্ধায় না থাকলেও তার লোকদের খাওয়াতে হয়।তিনি অভিযোগ করেন,সম্প্রতি তাকে চা দিতে একটু দেরি হওয়ায় কাওছার নামে আরেক কর্মচারিকে সাঘাটায় তাৎক্ষনিক বদলি করেছেন।’

কক্ষে থাকা প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান বলেন, ‘সরকার এখন পর্যন্ত আমাকে বাসভবন দেয়নি। যেহেতু সরকার আমাকে বাসভবন দেয়নি, জনগন যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, জনগণ আমাকে যেন সবসময় কাছে পায় এ কারণে আমি জেলা পরিষদের কক্ষ ভাড়া দিয়ে থাকি।’

এমনকি ডাক বাংলোয় চেয়ারম্যানের যেসব লোকজন রাত্রিযাপন করেন, তারা গভীর রাত পর্যন্ত কক্ষে যাতায়াত ও উচ্চস্বরে কথাবার্তা বলেন। ফলে আশপাশের কক্ষে জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দফতরের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা বিব্রতবোধ করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, ‘চেয়ারম্যানের লোকজনের কারণে গভীর রাত পর্যন্ত ঘুমাতে পারি না।তারা তো ঘুম থেকে ওঠে সকাল দশটার পর।কিন্তু আমাকে উঠতে হয় সকাল আটটায়। এ প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান বলেন, আমি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, আমি জনপ্রতিনিধি, কথা বলতে গেলে রাত বারোটা, একটা হতেই পারে।’

খাওয়া প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, যেখানে আমি খাবো, সেখানে খাবার টেবিলে আমার চরাঞ্চালের যদি পাঁচটা লোক আসে, যদি একজন সাংবাদিক আসে, আমি কি তাদেরকে বাদ দিয়ে খেতে পারবো। যদিও আমি নিজের টাকায় খাই, তারপরও কি তাদের বাদ দিয়ে খেতে পারবো।’

আতাউর রহমান আতা ছিলেন সাঘাটা উপজেলার ঘুড়িদহ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান। একবার নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন পনের বছর। প্রথম পাঁচ বছর নির্বাচিত হয়ে এবং পরের দশ বছর মামলাসংক্রান্ত জটিলতায়। এরপর ইউপি চেয়ারম্যান থেকে গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর জেলা পরিষদের নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি বর্তমানে সাঘাটা উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও জাপার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য।

Check Also

sonardesh24.com

জামিনে মুক্ত আমীর খসরু

সোনারদেশ২৪: ডেস্কঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের হওয়া মামলায় বিএনপির ...

সম্পাদকঃ জিয়া্উল হক, নির্বাহী সম্পাদকঃ নওশাদ আহমেদঠিকানাঃ কমিউনিটি হাসপাতাল (৫ম তলা) মুজিব সড়ক, সিরাজগঞ্জ।
ফোনঃ ০১৬৮৩-৫৭৭৯৪৩, ০১৭১৬-০৭৬৪৪৪ ইমেইলঃ sonardesh24.corr@gmail.com, sonardesh24@yahoo.com