Saturday, September 22, 2018

ঘরে বসে লাখপতি হোন।

অনলাইন ভিত্তিক অর্থ উপার্জনের ১০০% নিশ্চয়তা দিয়ে ডি.আই.টি-তে বিভিন্ন কোর্স-এ ভর্তি চলিতেছে..!

মোবাইলঃ-01763-023348
sonardesh24.com

ডিও লেটারের বদৌলতে যুবলীগে ছাত্রদলনেতা

সোনারদেশ২৪ রিপোর্টঃ

sonardesh24.comমাসুদ খান জনিকে আহ্বায়ক করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট নেত্রকোনা জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন করেছে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মাদ ওমর ফারুক চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনুর রশীদ। কমিটির আহ্বায়ক স্থানীয় সাংসদ, যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় এর ছোট ভাই।

দীর্ঘদিন পর কমিটি পেলে যেখানে নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায় সেক্ষেত্রে জেলার রাজনীতির দৃশ্যপট ভিন্ন। নতুন এ আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার পর থেকে জেলা আওয়ামী রাজনীতিতে যুবলীগের কমিটি অনুমোদনের সত্যতা নিয়ে সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মনে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। শুরু হয়েছে বিতর্কের ঝড়। সংগঠনটির ভেতরে-বাইরে বিরাজ করছে হতাশা ও অসন্তোষ। তাই যে কোনো সময় কমিটিকে ঘিরে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও দলের কোনো কোনো নেতা মনে করছেন।

জানা গেছে, সংগঠনটির দলীয় প্যাডে বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত ২১ সদস্যের কমিটিকে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে যুবলীগের সকল উপজেলা শাখার সম্মেলন শেষ করে জেলা কমিটি গঠনেরও নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

কিন্তু উক্ত আহ্বায়ক কমিটির তথ্যচিত্রে দেখা গেছে, কমিটি ঘোষণা বার্তায় কেন্দ্রীয় সভাপতি উক্ত কমিটিকে ১৯-০১-২০১৫ এবং কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ১৯-০১-২০১৭ তারিখে অনুমোদন করে স্বাক্ষর দিয়েছেন। যদিও এ ব্যাপারে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় দফতর থেকে ভুল স্বীকার করে সংগঠনের ওয়েবসাইটে নতুন করে আহ্বায়ক কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

কমিটির সদস্যরা হলেন- দেওয়ান রনি, জামিউল ইসলাম খান জামি, অনুপ সরকার, সোয়েব সিদ্দিকী, মনিরুজ্জামান রোমান, রিপন কুমার রায়, আব্দুল ওয়াহাব জুটন, সিদ্ধার্থ শংকর পাল, মো.হেলিম মিয়া, তফিকুল ইসলাম টিটু, আজাহারুল ইসলাম স্বপন, সাঈদ বিন নূর চৌধুরী পাপ্পু, রফিকুল ইসলাম খান, রুবায়েত রাসেল, আবু নাসের মণি, কাজি সাখাওয়াত হোসেন, আব্দুল্লা আল আজাদ মুন্না, মাহবুবুর রহমান বুলবুল, ত্রিবীর বিশ্বাস তনয় এবং তাপস ব্যানার্জী।

এতেই শেষ নয়। ইতোমধ্যে কমিটি নিয়ে অভিযোগ উঠেছে, নিজেদের পকেট কমিটি’র দল ভারী করতে মোটা অংকের অর্থ লেনদেনের বিনিময়ে জেলা যুবলীগের রাজনীতিতে প্রশ্নবিদ্ধ ও নিষ্ক্রিয়দের অর্ন্তভুক্তি করার পাশাপাশি জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে বিতর্কিতদের পদে রাখা হয়েছে। সংগঠনের জন্য নিবেদিত প্রাণ অনেক ত্যাগী ও সম্ভাবনাময় নেতা যেখানে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেনি সেখানে কমিটিতে স্থান পেয়ে চমক দেখিয়েছেন সাবেক এক ছাত্রদল নেতা। আর স্থানীয় সাংসদ রেবেকা মোমেন এমপি যুবলীগের পদ থেকে সাবেক এই ছাত্রদল নেতাকে ‘ডিও লেটার’ দিয়ে সুপারিশ করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। যদিও রেবেকা মোমেন নিজে ব্রেকিংনিউজের কাছে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কমিটির নেতৃত্বে আসা নেতাকে নিয়ে যতটা আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে তারচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে যুবলীগের কমিটিতে স্থান পাওয়া ১২ নম্বর সদস্য সাইদ বিন নুর চৌধুরী পাপ্পু’র নাম। সে ক্ষমতাসীন সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রীর আরেক ছোট ভাই অমিত খান শুভ্র’র বিশেষ সহকারী হিসেবে জেলার সকলের কাছে পরিচিত। ব্যবসা ও টেন্ডারবাজি নিয়েই সারাবছর রাজধানীতে অবস্থান করে থাকেন। যদিও মোহনগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে তার পরিবার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। তবে নিজে নেত্রকোনা জেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা হওয়ায় পরিবার থেকে সবসময় কিছুটা দুরত্ব বজায় রেখে চলেন। কারণ ২০০১ সালে বিএনপি যখন রাষ্ট্র পরিচলানায় তখন এই ছাত্রদল নেতা তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের খুবই আস্থাভাজন ও কাছের লোক হিসেবে জেলায় প্রভাব বিস্তার করেছেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে যার হাতে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতারা সবচেয়ে বেশি হয়রানির শিকার হয়েছেন, সেই তাকেই এবার নিজ পক্ষের লোকের আত্মীয় হওয়ায় সংসদীয় আসন নেত্রকোনা-৪ (মোহনগঞ্জ-মদন-খালিয়াজুরী) সাংসদ রেবেকা মোমেন জেলা যুবলীগের কমিটিতে রাখার জন্য যথাযথ কর্তৃকপক্ষের কাছে ডিও লেটার দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শনিবার (২১ জানুয়ারি) সাংসদ রেবেকা মোমেন ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডিকে বলেন, ‘সাইদ বিন নুর চৌধুরী পাপ্পুকে আমি ভালো করে চিনি না। মনে হয়েছে আমি আজ সকালেই তাকে প্রথম দেখেছি, আগে কখনও দেখিনি। তাই তার বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ থেকে থাকে তাহলে দীর্ঘদিন যাবৎ যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নেতাদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’

ডিও লেটার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যুবলীগের কমিটি অনুমোদন করেছেন সংগঠনটির চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী। কাজেই সেক্ষেত্রে আমার কিছুই করার নেই। আমি শুনেছি ১৯ জানুয়ারি জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কখন, কিভাবে ঘোষণা হয়েছে সে ব্যাপারে জানি না। সাইদ বিন নুর নামে আমি কারো জন্য ডিও লেটার দেইনি। তাছাড়া এই বিষয়ে ডিও লেটার দেয়া হয় না।’

এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘জেলার রাজনীতির এতো খবর রাখি না, সে বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাই না। তারপরও বলছি, আমার নির্বাচনী আসন (মোহনগঞ্জ-মদন-খালিয়াজুরী) এই তিন উপজেলার কোনো কমিটিতে এরকম ঘটনা হলে প্রতিবাদ করতাম। সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নিতাম। তাছাড়া জেলার কোনো কমিটির ব্যাপারে প্রতিবাদ করার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। কারণ আমি একজন প্রতিবাদ করলাম কিন্তু জেলাধীন অন্যান্য এমপি’রা এ ব্যাপারে দেখা গেলো সমর্থন দিলো না তখন সেটা বিরক্তিকর হয়ে দাঁড়াবে।’

সাংসদ রেবেকা মোমেন আরও বলেন, ‘যদি কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে খোঁজ নিয়ে দেখবো। তবে যুবলীগের কেন্দ্রীয় যে চেয়ারম্যান আছেন, তিনি যদি জেলার সকল এমপিদের বলতেন যে, কমিটির নামগুলো ঠিকটাক আছে কী না? তাহলে অন্তত যাচাই-বাছাই করা সম্ভব হতো। কে কোন দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন তা জানা যেতো। কিন্তু হঠাৎ করে আহ্বায়ক কমিটি পাস হয়ে গেলো তাও আবার ঘোষিত কমিটিতে কোনো যুগ্ম আহ্বায়কের পদ রাখা হয়নি। একজনকে আহ্বায়ক করে বাকী সবাইকে সদস্য রাখা হয়েছে।’

জেলা যুবলীগের বেশ কয়েকজন সাবেক নেতার সঙ্গে আলাপকালে তারা ব্রেকিংনিউজকে জানান, যেখানে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দলের মধ্যে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেছেন সেখানে শুনতে পাচ্ছি একজন সাংসদ সদস্য সাবেক ছাত্রদল নেতাকে আওয়ামী লীগের ভ্যানগার্ড খ্যাত যুবলীগের মতো একটি সংগঠনের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করতে সুপারিশ করেছেন। রাজনীতিতে এর চেয়ে দুঃখজনক ঘটনা আর কী হতে পারে- সেটা কোনোক্রমেই বোধগম্য হচ্ছে না।’

নেতাদের অভিযোগ, দুর্দিনে ছিলাম আবার যখন দুর্দিন আসবে তখন রাজনীতিতে আসবো। কিছুদিন বিশ্রাম নিয়ে দেখি সাজানো পুতুল কমিটি কিভাবে কী করে। কাঙ্ক্ষিত পদে যেতে পারিনি বলে হতাশ হয়নি। তবে দুঃখ পাই- মোহাম্মাদ ওমর ফারুক চৌধুরী ভাইয়ের মতো নেতা যখন বিচার-বিশ্লেষণ ছাড়াই মোহে পড়ে কমিটি অনুমোদন করে বসেন।’

এদিকে সাইদ বিন নুর চৌধুরী পাপ্পু ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডিকে বলেন, ‘আমি ও আমার পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আমি আওয়ামী পরিবারের সন্তান। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় একটি কথা না বললেই নয়, এখন বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা করাটা একটি ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। কাজেই কথা কথায় নিজ স্বার্থ হাসিল করতে যে কাউকে ইচ্ছে মতো বিএনপির লোক ও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে নানান অপপ্রচার চালানোর একটি প্রচেষ্টা সমাজের সর্বস্তরে বিরাজমান রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আচ্ছা ধরুন, এখন আমি যদি বলি সদ্য ঘোষিত নেত্রকোনা জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে মিথ্যা ও অসত্য প্রতিবেদন লিখার জন্য আপনি মোটা অংকের টাকা খেয়েছেন। তাহলেই কি প্রমাণ হয়ে যাবে আপনি টাকা খেয়েছেন। আরে ভাই সত্যি বলতে কি, আসলে আমরা যারা রাজনীতি করি, তাদের যেমন পক্ষে বলার অনুসারী আছে ঠিক তেমনি বিপক্ষে বলারও প্রতিপক্ষ আছে। আর এটাই রাজনীতি!’

Check Also

sonardesh24.com

মারা গেলেন ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ সোনারদেশ২৪: দীর্ঘদিন ধরে অসুখে ভুগে মৃত্যুবরণ করেছেন ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট ত্রান দাই কোয়াং। মৃত্যুর ...

সম্পাদকঃ জিয়া্উল হক, নির্বাহী সম্পাদকঃ নওশাদ আহমেদঠিকানাঃ কমিউনিটি হাসপাতাল (৫ম তলা) মুজিব সড়ক, সিরাজগঞ্জ।
ফোনঃ ০১৬৮৩-৫৭৭৯৪৩, ০১৭১৬-০৭৬৪৪৪ ইমেইলঃ sonardesh24.corr@gmail.com, sonardesh24@yahoo.com