Tuesday, November 13, 2018

ঘরে বসে লাখপতি হোন।

অনলাইন ভিত্তিক অর্থ উপার্জনের ১০০% নিশ্চয়তা দিয়ে ডি.আই.টি-তে বিভিন্ন কোর্স-এ ভর্তি চলিতেছে..!

মোবাইলঃ-01763-023348
sonardesh24.com

পাহাড়ে নিহতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে

সোনারদেশ২৪ রিপোর্টঃ

sonardesh24.comঢাকা: প্রবল বর্ষণে পাহাড় ধসে চট্টগ্রামের ৩ জেলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩১ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন বহু মানুষ। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২ কর্মকর্তাসহ অন্তত ৪ জন সদস্য রয়েছেন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সোমবার (১২ জুন) রাতে ও মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকায় এ পাহাড় ধসের এ ঘটনা ঘটে।

সর্বশেষ রাঙামাটিতে সেনা কর্মকর্তাসহ ৯৮ জন, বান্দরবানে ৬ জন এবং চট্টগ্রামে ২৭ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এখনও মাটির নিচে অনেকের লাশ চাপা পড়ে আছে।

সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে রাঙামাটিতে। সেখানে ৭৫ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে মহিলা ও শিশু রয়েছেন। এ ছাড়া নিহতদের মধ্যে সেনাবাহিনীর ৪ জন সদস্য রয়েছেন। যারা রাঙামাটির মানিকছড়ি ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে সেনাবাহিনীর ২ কর্মকর্তা রয়েছেন। এখনও কয়েকজন সেনা সদস্য নিখোঁজ আছেন বলে বিবিসির খবরে বলা হচ্ছে।

রাঙামাটির পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, সেখানে মঙ্গলবারও প্রবল বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ বন্ধ হয়েছে।

ফলে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে পায়ে হেঁটে বিভিন্ন এলাকায় যেতে হচ্ছে। পরিস্থিতি সস্পর্কে পরিষ্কার চিত্র পেতে আরও অপেক্ষা করতে হবে।
বান্দরবানের পুলিশ সুপার সঞ্চিত কুমার বিবিসিকে বলেন, প্রবল বর্ষণে ভূমি ধসের সাথে গাছপালা ভেঙে পড়েছে।

জেলার অধিকাংশ জায়গায় কোনও বিদ্যুৎ নেই। উদ্ধারকাজের জন্য বিভিন্ন জায়গায় সেনাবাহিনীর সদস্যরাও যোগ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন  তিনি।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রবিবার এবং সোমবার টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে বিভিন্ন জায়গায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। ফলে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী অনেক বাড়ি মাটি চাপা পড়েছে।

আইএসপিআর যা বলছে
পাহাড় ধসে সেনাদের মৃত্যুর ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। আইএসপিআর বলছে,  রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসে উদ্ধার কার্যক্রম চালানোর সময় মঙ্গলবার ২ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৪ জন সেনাসদস্য নিহত হয়। ভোরে রাঙ্গামাটির মানিকছড়িতে একটি পাহাড় ধসে মাটি ও গাছ পড়ে চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মহাসড়ক বন্ধ হয়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে রাঙ্গামাটি জোন সদরের নির্দেশে মানিকছড়ি আর্মি ক্যাম্প থেকে সেনাবাহিনীর একটি দল উক্ত সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। উদ্ধার কার্যক্রম চলাকালীন আনুমানিক সকাল ১১টায় উদ্ধার কার্যস্থল সংলগ্ন পাহাড়ের একটি বড় অংশ উদ্ধারকারীদলের উপর ধসে পড়লে তারা মূল সড়ক হতে ৩০ ফিট নিচে পড়ে যান। পরবর্তীতে একই ক্যাম্প থেকে আরও একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ২ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৪ জন সেনাসদস্যকে নিহত এবং ১০ জন সেনাসদস্যকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে।

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক মঙ্গলবার বিকেলেই ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং উদ্ধার কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। তিনি হতাহত সকল সেনাসদস্য ও তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।

গত তিনদিনের প্রবল বর্ষণের ফলে  সোমবার থেকেই পার্বত্য চট্টগ্রামে বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধস শুরু হয়। এতে করে সমগ্র এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যের জন্য বিভিন্ন সেনা ক্যাম্পের সদস্যরা উদ্ধারকার্যে অংশগ্রহণ করে ।

আহতদের মধ্যে  ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারযোগে ঢাকা সিএমএইচ এ স্থানান্তর করা হয়। উদ্ধার কার্যক্রম চালানোর সময় ভূমি ধসে পতিত সেনাসদস্য সৈনিক মোঃ আজিজুর রহমান (জন্মঃ ২০ জুলাই ১৯৮৭; বাড়ী-মাদারীপুর; তিনি ২০০৫ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যোগদান করেন; তিনি বিবাহিত এবং এক মেয়ের জনক) এখন পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন। প্রচন্ড বৃষ্টিতে উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে ।

নিহতরা হলেন- মেজর মোহাম্মদ মাহফুজুল হক (জন্মঃ ১৬ মার্চ ১৯৮১; বাড়ী- সিংড়াইল, মানিকগঞ্জ; তিনি ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে যোগদান করেন এবং ৪৪ বিএমএ লং কোর্সের সাথে কমিশন প্রাপ্ত হন; তিনি বিবাহিত এবং পাঁচ বছর বয়সী এক ছেলের জনক), ক্যাপ্টেন মোঃ তানভীর সালাম শান্ত (জন্মঃ ৩০ মার্চ ১৯৯০; বাড়ী-বাউফল, পটুয়াখালী; তিনি ২০০৯ সালে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে যোগদান করেন এবং ৬৪ বিএমএ লং কোর্সের সাথে কমিশন প্রাপ্ত হন; তিনি সদ্য বিবাহিত), কর্পোরাল মোহাম্মদ আজিজুল হক (জন্মঃ ০১ মে ১৯৭৬; বাড়ী-ঈশ¡রগঞ্জ, ময়মনসিংহ; তিনি ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যোগদান করেন; তিনি বিবাহিত এবং এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক) ও সৈনিক মোঃ শাহিন আলম (জন্মঃ ০১ আগস্ট ১৯৮৮; বাড়ী-আদমদিঘী, বগুড়া; তিনি ২০০৬ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন; তিনি বিবাহিত এবং এক ছেলের জনক)। সেনাবাহিনী সমগ্র পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধারে কাজে অংশহগ্রহণ করছে এবং যোগাযোগ ব্যাবস্থা পুনস্থাপন করতে কাজ করে যাচ্ছে।

ত্রাণ মন্ত্রী যা বললেন
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম বলেছেন, পার্বত্য অঞ্চল রাঙামাটি, বান্দরবান, চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে উদ্ধার কার্যক্রম, খাদ্য সহায়তা ও আশ্রয় দেয়ার সকল চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

মঙ্গলবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে পার্বত্য পাহাড় ধস নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। মায়া বলেন, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, স্থানীয় প্রশাসন ও নেতৃবৃন্দ সবাই পাহাড় ধসে হতাহত ব্যক্তিদের উদ্ধার ও আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন।

তিনি বলেন, পাহাড়ি এলাকায় দুইদিন পূর্ব থেকেই লোকদেরকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়। এর মধ্যে গত দুইদিনে সাড়ে চার হাজার লোককে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া হয়েছে। লোকদেরকে উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া অব্যাহত রয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়া লোকজন যতদিন নিজ আশ্রয়ে ফিরে না যাবেন, ততদিন তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে খাদ্য সরবরাহ করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, খাদ্য সহায়তা বাবদ বান্দরবানে ৭৫ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ২ লক্ষ টাকা, রাঙ্গামাটিতে ১৮৮ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ৬ লক্ষ ২৩ হাজার টাকা ও চট্টগ্রামে ২২৮ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ১১ লক্ষ ৪৭ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সেখানে আহত লোকদের চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। মৃত ব্যক্তিদের সৎকারের জন্য তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে জনপ্রতি ২০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, উদ্ধার কাজ পরিচালনা ও তদারকির জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীসহ স্থানীয় সকল এমপিকে নিজ নিজ এলাকায় যাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। বুধবার ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ শাহ্ কামালসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে যাবেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও রাঙ্গামাটি পরিদর্শনে যাবেন।

 

Check Also

sonardesh24.com

লালমনিরহাটে জমি নিয়ে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে নিহত ২

লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ সোনারদেশ২৪: লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় জমি নিয়ে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ...

সম্পাদকঃ জিয়া্উল হক, নির্বাহী সম্পাদকঃ নওশাদ আহমেদঠিকানাঃ কমিউনিটি হাসপাতাল (৫ম তলা) মুজিব সড়ক, সিরাজগঞ্জ।
ফোনঃ ০১৬৮৩-৫৭৭৯৪৩, ০১৭১৬-০৭৬৪৪৪ ইমেইলঃ sonardesh24.corr@gmail.com, sonardesh24@yahoo.com