Tuesday, June 19, 2018

ঘরে বসে লাখপতি হোন।

অনলাইন ভিত্তিক অর্থ উপার্জনের ১০০% নিশ্চয়তা দিয়ে ডি.আই.টি-তে বিভিন্ন কোর্স-এ ভর্তি চলিতেছে..!

মোবাইলঃ-01763-023348

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে মিলন মেলার মহোৎসব

পঞ্চগড় প্রতিনিধি, সোনারদেশ২৪ডটকমঃ

প্রতি বছরের মতো এবারো নববর্ষ উপলক্ষে পঞ্চগড়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুই বাংলার মিলন মেলা। কড়া নজরদারি আর বিজিবি বিএসএফের বাধা উপেক্ষা করে প্রিয় স্বজনদের এক পলক দেখতে সীমান্তে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে। মুহূর্তেই সীমান্ত এলাকা দুই বাংলার মিলন মেলায় পরিণত হয়।

panchagarh milon mela pic -15_01_newsnextbdপ্রতি বছর বাংলা নতুন বছরের প্রথম দিন জেলা সদরের অমরখানা সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ডে এই মিলন মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। তবে এবার ভারতের বিধানসভা নির্বাচনে পঞ্চগড়ের পার্শ্ববর্তী  সীমান্তের ওপারের এলাকাগুলোতে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় পহেলা বৈশাখের আগের দিনই সীমান্তে দুই পাড়ে জড়ো হতে থাকে হাজার হাজার মানুষ।
বুধবার সকাল থেকেই পঞ্চগড়সহ পার্শ্ববর্তী জেলার বিভিন্ন প্রান্তের নারী পুরুষ ও শিশুদের নিয়ে ওপারের স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে অমরখানা সীমান্তের কাছে এসে জড়ো হয়। বেলা ১ টার সময় বিজিবি ও বিএসএফ দুই বাংলার মানুষদের সীমান্তের কাঁটা তারের কাছে যাওয়ার অনুমতি দেয়। ওই সীমান্তের ৭৪৪ নং মেইন পিলারের ১ থেকে ৭ নং সাব-পিলার পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার নো-ম্যান্সল্যান্ড এলাকার কাঁটাতারের বেড়ার দুই পাশে পঞ্চগড় জেলার অমরখানা ইউনিয়নের অমরখানা ও বোদাপাড়া এবং ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার রায়গঞ্জ থানার খালপাড়া, ভিমভিটা, গোমস্তাবাড়ি ও বড়ুয়াপাড়া গ্রামসহ উভয় দেশের বিভিন্ন বয়সী লাখো মানুষ মিলনমেলায় অংশ নেয়। এই মিলন মেলায় লাগেনা কোন ভিসা বা পাসপোর্ট।

panchagarh milon mela pic -7_06_newsnextbdকাঁটা তারের বেড়ার ফাঁক দিয়েই প্রিয় স্বজনদের এক পলক দেখে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন অনেকেই। পুড়ো সীমান্তে এক আবেগ ঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এ সময় কেউ স্বজনদের হাত ছুঁয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন আবার কেউ স্বজনদের জন্য আনা উপহার সামগ্রী বিনিময় করে।

এবার কেউ কেউ নববর্ষ উপলক্ষে ভারতীয় স্বজনদের ইলিশ মাছ উপহার দেয়। আত্মীয় স্বজন না থাকলেও মিলন মেলার মহোৎসব দেখতে আসে তরুণ প্রজন্মও। কেউ কেউ আবার মোবাইল ফোনে মিলন মেলার কাঁটা তারের সঙ্গে সেলফিও তোলে।
জানা যায় ৪৭ এ পাকিস্তান-ভারত বিভক্তির পূর্বে পঞ্চগড় জেলার পঞ্চগড় সদর, তেঁতুলিয়া, বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলা ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার অধীনে ছিল। পাকিস্তান-ভারত বিভক্তির পর এসব এলাকা বাংলাদেশের অর্ন্তভূক্ত হয়। দেশ বিভক্তের কারণে উভয় দেশের নাগরিকদের আত্মীয়-স্বজন দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরও দুই দেশের নাগরিকরা তাদের আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে যাওয়া-আসার সুযোগ পেলেও ভারত সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করায় অবাধ যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে উভয় দেশের নাগরিকদের অনুরোধে প্রায় একযুগ ধরে বিজিবি ও বিএসএফের সহযোগিতায় অমরখানা সীমান্তে দুই বাংলার মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

এবছরও ভারত-বাংলাদেশের নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর জড়ো হয় সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ডে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি-বিএসএফ সদস্যদের হিমশিম খেতে হয়। বেলা ১ টায় বিএসএফ বিজিবি একমত হয়ে কাঁটাতারের বেড়ার কাছ যাওয়ার অনুমতি দিলে বাঁধভাঙ্গা জোয়ারের মতো ঊভয় দেশের বিভিন্ন বয়সি মানুষজন নোম্যান্সল্যান্ডে প্রবেশ করে। আবেগ, কান্না, ¯স্নেহ ভালোবাসায় ভরে উঠে পুড়ো সীমান্ত।

panchagarh milon mela pic -4_02_newsnextbdপঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার ভাউলাগঞ্জ থেকে এসেছেন সরদিনী রাণী (৫০)। ওপারে জলপাইগুঁড়ির কাশিবাড়ি এলাকায় তার মেয়ে সরস্বতীকে বিয়ে দিয়েছেন ৮ বছর হলো। কিন্তু অর্থকড়ি না থাকায় পাসপোর্ট ভিসা করে মেয়েকে দেখতে যেতে পারেন না। কিন্তু বছরে একবার এইভাবে মেয়েকে দেখার সুযোগ হয়। মেয়ে ও নাতি সবাইকে আর্শিবাদ করেন সরদিনী।

এ সময় তিনি একবার মেয়েকে  ছুঁয়ে আদর করেন। সীমান্তে কাঁটা তারের বেড়ায় সে আবেগ ছাপিয়ে যায়।

panchagarh milon mela pic -3_04_newsnextbdতার মতো পঞ্চগড়ের টুনিরহাট থেকে জগদিস চন্দ্র রায় এসেছেন ভারতের শিলিগুড়িতে থাকা আপন ভাই ফনিভূষণকে দেখতে।

শত আবেগ আর প্রিয় স্বজনদের এক পলক দেখার লোভে লাখো বাঙালি প্রতি বছর দুই বাংলার এই মিলন মেলায় যোগ দেয়। এ সময় তারা ওই সীমান্তে একটি সীমান্ত হাটের দাবি জানান।

Check Also

sonardesh24.com

বিশ্বকাপে জোড়া গোল!

ক্রীড়া ডেস্কঃ সোনারদেশ২৪: বিশ্বকাপের মতো কঠিন মঞ্চে একটি গোল করা পাহাড় ডিঙানোর চেয়েও বেশি কিছু। ...

সম্পাদকঃ জিয়া্উল হক, নির্বাহী সম্পাদকঃ নওশাদ আহমেদঠিকানাঃ কমিউনিটি হাসপাতাল (৫ম তলা) মুজিব সড়ক, সিরাজগঞ্জ।
ফোনঃ ০১৬৮৩-৫৭৭৯৪৩, ০১৭১৬-০৭৬৪৪৪ ইমেইলঃ sonardesh24.corr@gmail.com, sonardesh24@yahoo.com